Monday, June 22, 2020

ইসলামিক শিক্ষণীয় গল্প হুজুর হুজুরনী - Huzur Huzurni Bangla Islamic Golpo

ইসলামিক শিক্ষণীয় গল্প হুজুর হুজুরনী - Huzur Huzurni Bangla Islamic Golpo

ইসলামিক শিক্ষণীয় গল্প হুজুর হুজুরনী - Huzur Huzurni Bangla Islamic Golpo, Islamic golpo, Islamic story, valobashar golpo, shikkhonio golpo
ইসলামিক শিক্ষণীয় গল্প হুজুর হুজুরনী

ইসলামিক শিক্ষণীয় গল্প
হুজুর হুজুরনী
১ম পর্ব --


সবাই পড়বেন আশা করি ভালো লাগবে।
ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্রী ইশিতা।
মেধাবী যথেষ্ট। তবে আধুনিক তার চলাফেরা।তাদের ক্লাসে হুজুর টাইপের এক ছাত্র ভর্তি হয়েছে।নাম আবদুল্লাহ।
সে ক্লাসে এসে সাধারনত কোন মেয়ের দিকে তাকায়না। ইশিতা যথেষ্ট সুন্দরী তবুও একবারও ভালো করে তাকিয়ে দেখেনা পর্যন্ত। কিছু জিগ্যাসা করলে আরেকদিকে তাকিয়ে বা নিচের দিকে তাকিয়ে জবাব দেয়। ধীরে ধীরে তার উপর ইশিতার রাগ ও ক্ষোভ চরমে ওঠে। একদিন ক্লাসে সবার সামনে বলেই ফেললো।
ইশিতা: এই হুজুর !তুমি আমার দিকে তাকাও না কেন , আমি কি কম সুন্দরী !
আবদুল্লাহঃ আপনি যত সুন্দরী হন না কেন তাতে আমার কিছু যায় আসেনা , কেননা পর নারীর দিকে তাকানো জায়েজ নয়।
এটা আমার আল্লাহর হুকুম।
আর আপনি যে সৌন্দর্যের লোভ দেখিয়ে আমাকে ডাকছেন , তাকে আমি প্রত্যাখান করছি ঐ আল্লাহর জন্য যে আপনার চেয়েও সুন্দর সুন্দর জিনিস সৃষ্টি করেছেন।
ইশিতাঃ হাহ্ যত্তসব !
একদিন বাংলা পিরিয়ডে স্যার আসেনি। তাই ক্লাসে সবাই গল্প করছে। গল্পের টপিক কেমন ছেলে বিয়ে করতে চাই?
কেমন মেয়ে বিয়ে করতে চাই?
হঠাৎ করে ক্লাসের সবচেয়ে স্মার্ট স্টাইলিশ মেয়েটা বলে উঠল এই সবাই চুপ , আমি এখন একজনকে সামনে এসে বলতে বলব কেমন মেয়ে সে বউ হিসেবে চায় ।
সবাই রাজি?
-সবাই বললো, ইয়েসসসস।
ইশিতাঃ এখন সামনে এসে ভবিষ্যত স্ত্রী সম্পর্কে বলবে আমাদের ক্লাসের হুজুর ছাত্র আবদুল্লাহ !
আবদুল্লাহ আশ্চর্য হয়ে গেল !
বুঝতে পারল তাকে শিক্ষা দেয়ার জন্যই ইশিতা এমন করছে।
আবদুল্লাহ ও সামনে গেল।
আবদুল্লাহঃ আমি এমন একজন স্ত্রীকেই আশা করি , যার কন্ঠস্বর শোনা প্রথম পুরুষ হবো আমি ।
তার সৌন্দর্য দেখা প্রথম পুরুষ হবো আমি।
তার ভালবাসা পাওয়া প্রথম পুরুষ হবো আমি !
ইশিতা হঠাৎ থামিয়ে দিয়ে
" হইছে হুজুর সাহেব এসব স্বপ্নের কথা বাদ দেন , এমন মেয়ে এই দুনিয়ায় নাই , জান্নাতে গিয়া পাবেন !
সবাই অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো যেন .........
আবদুল্লাহ তখন হঠাৎ কুরআনের এই আয়াত তেলাওয়াত করলো
যার অর্থঃ
- “দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য (উপযুক্ত)। (একইভাবে) সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্য (উপযুক্ত)। [ আল কুরআন ]
সবাই চুপ হয়ে গেল ।
আবদুল্লাহ পিছনে এসে বসে পড়ল।
ইশিতা ঠিক করলো ,আবদুল্লাহকে মার খাওয়াবে। যেই ভাবা সেই কাজ , তার কিছু ছেলেবন্ধুকে বলে দিলো তাকে শায়েস্তা করার জন্য।
বিকালে ক্লাস শেষে আবদুল্লাহ যখন বাসার দিকে যাচ্ছিলো , তখন একটা ছেলে এসে তাকে একটা চিপা গলির মধ্যে নিয়ে গেলো ।
এক ছেলে বলে উঠল , কিরে হুজুর, তোর নাকি অনেক ভাব!
যেই মেয়েরে আমরা চাইয়াও পাইনা , সেই মেয়ের দিকে নাকি তুই ফিরেও তাকাসনা! তারে দাম দেসনা! , বেশি ভাব বাড়ছে! না!
আবদুল্লাহঃ গুনাহ থেকে বাঁচা যদি ভাব হয় তাহলে আমি সত্যিই ভাব মারি ।
--কিরে হুজুর খুব চেটাং চেটাং কথা বলিস দেখছি !
আবদুল্লাহঃ দেখো ভাইয়েরা , আমরা হচ্ছি পুরুষ , পুরুষ থাকবে পুরুষের মত , সত্যিকার পুরুষরা কখনো মেয়ের পিছনে ঘুরেনা !
আর তোমরা কি না একটা মেয়ের কথায় আমাকে মারতে আসছো!
লজ্জা হওয়া উচিৎ তোমাদের ।
--কি আমরা সত্যিকার পুরুষ না ! দাড়া দেখাইতাছি মজা ।
আবদুল্লাহঃ
শুনো ভাইয়েরা , নিজেদের এত নিচু করোনা , নিজেকে সম্মানিত করো , আল্লাহর হুকুম মত চলো , তাহলে আর মেয়েদের পিছনে ঘুরা লাগবেনা , সমগ্র দুনিয়া তোমার পিছনে ঘুরবে।
আর মৃত্যুর পর পাবে এমন জান্নাত যেখানে তোমার জন্য থাকবে এমন নারী যাকে কেউ কখনো দেখেনি , যাকে কেউ কখনো স্পর্শ করেনি ।
ছেলেরা আবদুল্লাহকে মারতে যাবে,
হঠাৎ আবদুল্লাহর এর বন্ধু হিমেল গলিতে আসল !
হিমেল আবার এলাকার বড় ভাই !
হিমেলঃ কিরে আবদুল্লাহ! তুই এখানে কি করিস ? কোন ঝামেলা?
সবাই তো ভয়ে থতমত ।
আবদুল্লাহঃ আরে নাহ্!
ছোট ভাই গুলাকে একটূ দ্বীনের দাওয়াত দিতে আসলাম।
হিমেলঃ খুব ভাল , ঐ তোরা হুজুরের কথা ঠিক মত শুনিস, আমার ভাল বন্ধু , নামাজে যাইস তোরা।
সবাই ভীত গলায় বললঃ অবশ্যই ভাই ।
আবদুল্লাহ সবাইকে সালাম দিয়ে চলে আসল।
ইশিতাঃ এই হুজুর ছেলেটা আমার মাথা.........

Next Part

Previous Post
Next Post

post written by:

No comments:

Post a Comment